Breaking News
Home / শিক্ষা / দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা – করোনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা যেন এক রণক্ষেত্র। তার উপরে করোনা মহামারির বাড়তি ঝুঁকি। দফায় দফায় সবাইকে মানতে হচ্ছে শিষ্টাচার এবং পরিবারের সাথে রাখতে হচ্ছে দুরুত্ব।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা

বৃহস্পতিবার টানা ৮ ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোটা দেশে করা হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা। পরীক্ষায় নামক রণক্ষেত্রে নামবে সন্তান আর রাত থেকেই ছিলো তার তোরজোড় ৩৫ কভিড আক্রান্ত শিক্ষার্থী এবং মৃদু উপসর্গ থাকাদের জন্য দেশে প্রায় ১৪ শত করোনা টেস্টিং সাইট ও হাসপাতালে এবার আসন বিন্যাস করা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক করোনা টেস্ট করাতে হয়েছে শিক্ষার্থী,অভিবাবক এবং শিক্ষকদের।হলে প্রবেশের আগে মাপা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা ও অক্সিজেন। পরীক্ষা শুরুর আগে কিছুটা সরগরম থাকে দক্ষিন কোরিয়া। দিনের বাকি অংশ দেশজুড়ে শুনশান নিরবতা। নিরিবিলি পরিবেশ বজায় রাখতে বন্ধ থাকে ব্যাংক ও দোকান। এমনকি লিসেনিং টেস্টের আধঘন্টা দক্ষিন কোরিয়াতে বন্ধ থাকে বিমানের উঠানামা।

দক্ষিন কোরিয়ায় প্রতিযোগিতা মূলক সমাজে সব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। বৃহস্পতিবারের পরীক্ষার জন্য লম্বা সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে ৫ লাখ শিক্ষার্থী।

আরো পড়ুনঃ  নবম-দশম শ্রেনীতে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যিক বিভাগ থাকবেনা

এক শিক্ষার্থী জানানঃ করোনা আতঙ্কে আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রত্যেক সদস্য কিছুক্ষন পর পর হাত ধুচ্ছেন। ঘরে মাস্ক পড়েছেন আর আমার সাথে কমপক্ষে তিন ফুট দুরুত্ব বজায় রেখেছিলো। সবাইকে করোনা পরীক্ষা করাতে হয়েছে হলে আগেও কড়াকড়ি ছিলো এবার বেড়েছে কয়েকগুন। পুরোটা সময় মাস্ক পড়ে থাকতে হবে কতটা মনযোগ দেওয়া যাবে সেটাই প্রশ্ন।

বাইরে অপেক্ষারত অভিবাবকরাও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলো পুরোটা সময়। একে সন্তানের ফলাফলের চিন্তা তার উপরে করোনা আতঙ্ক। তবুও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কিছুটা সস্তি অভিবাবকদের।

এক অভিবাবক জানায়ঃ পরীক্ষা আরো দেরীতে অনুষ্ঠিত হলে মানসিক চাপে পড়তো শিক্ষার্থীরা। কারন একবার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিলো। আনন্দের বিষয় কর্তৃপক্ষ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক পক্রিয়ায় কাজটি সম্পন্ন করেছে। এবার প্রত্যাশা শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবে।

শুধু ছেলে পরীক্ষায় বসবে তাই আমার স্ত্রী সব কাঁচা বাজার অনলাইনে করেছেন আর আমি বাড়ি থেকে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেছি এমনকি বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে ছিলো ফোনে যোগাযোগ। সপ্তাহে একদিন মাত্র ছেলের সাথে একবেলা খাবার খেতাম।

স্থানীয় ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার বিশাল এই আয়োজন পরিচিত সুনে উং নামে। পাঁচ বিষয়ে টানা আট ঘন্টা পরীক্ষা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। ভবিষ্যৎ নির্ধারনের এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে পাঁচ ডিসেম্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *